ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আট গ্রামবাসীর মধ্যে ৬ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ শতাধিক গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া বাজারের বহু দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদি ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ বাজারে আজ শনিবার সকাল ৭টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত চলে। এতে মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন খাপুরা গ্রাম, সিংগারডাক গ্রাম ও মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দারা। পরে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন পার্শ্ববর্তী ভীমেরকান্দি, ছোট হামিরদি, হামিরদি, গুপিনাথপুরের গ্রামবাসী। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র ঢাল, সরকি, রামদা, ইটপাটকেল নিয়ে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া চলে। পরে জেলা সদর থেকে সেনাবাহিনী, ডিবি, অতিরিক্ত এক প্লাটুন পুলিশ ও ভাঙ্গা থানা-পুলিশ মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেকে চিকিৎসাধীন আছেন। সংঘর্ষে অন্তত তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী ইটের আঘাতে আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন দিন আগে মুনসুরাবাদ গ্রামের রাহাত নামের এক কিশোর ফুটবল খেলার মাইকিং করে। সে সময় খাপুরা, সিংগারডাক ও মাঝিকান্দা গ্রামের কয়েক যুবক তাকে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনার সূত্র ধরে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মুনসুরাবাদ বাজার বণিক সমিতির সভাপতি জিন্নাত মিয়াকে এলোপাতাড়ি মেরে আহত করেন খাপুরা গ্রামের কয়েক যুবক। এমন খবর মুনসুরাবাদ গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হন। পরে রাত হয়ে যাওয়ায় উভয় পক্ষ ফিরে যায়। এর জেরে আজ সকাল থেকে মুনসুরাবাদ বাজারসংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে আবার তাঁদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই সংঘর্ষ আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ছাদে উঠে ইটপাটকলেও নিক্ষেপ করতে দেখা যায় সংঘর্ষকারীদের। ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এ সময় উভয় পক্ষের একাধিক দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষকারীরা ঘরবাড়ির ছাদ, দোকানের চালা ও বিভিন্ন আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকেন। এতে পুরো মুনসুরাবাদ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সংঘর্ষের পর স্থানীয় মুরব্বিরা কথা দিয়েছিলেন যে তাঁরা আর সংঘর্ষে জড়াবেন না। কিন্তু হঠাৎ সকালে মুরব্বিদের কথা অমান্য করে তরুণেরা সংঘর্ষের শুরু করেন। এতে দুই পক্ষের প্রায় এক হাজার গ্রামবাসী জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আমাদের তিনজন পুলিশ সদস্য ইটের আঘাতে আহত হন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সেনাবাহিনী, র্যাব, ডিবি, অতিরিক্ত পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ ছাড়া ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।