হোম > সারা দেশ > ফরিদপুর

ফরিদপুরের সেই শিশুটিকে ইয়াবা সেবন করে ধর্ষণচেষ্টা, ব্যর্থ হয়ে হত্যা: পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, মূল অভিযুক্ত ইসরাফিল মৃধা (২৪) ইয়াবা সেবন করে শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ এক নারীর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখেন।

আজ শুক্রবার (১ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আজমীর হোসেন এসব তথ্য জানান।

ইসরাফিল মৃধা ছাড়া গ্রেপ্তার অপর দুজন হলেন নাছিমা বেগম (৪৫) ও তাঁর ছেলে শেখ আমিন (১৯)। তাঁরা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুণ্ডা পূর্বপাড়া সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত হিসেবে শিশুটির পরনে থাকা পাজামা, জুতা এবং একটি প্লাস্টিকের ড্রাম ও কম্বল জব্দ করেছে পুলিশ।

আজমীর হোসেন জানান, শিশুটির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতেই তার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুরে বাখুণ্ডা পূর্বপাড়া বোকাইল এলাকার রেললাইনের পাশের একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত ও বিবস্ত্র লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শিশুটি গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা সন্দেহভাজনদের নজরে রাখি এবং পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হত্যার ঘটনার কথা স্বীকার করেন।’

হত্যাকাণ্ডের কারণ উল্লেখ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শিশুটিকে একটি দোকান থেকে বিস্কুট ও চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধরে নিয়ে যান ইসরাফিল। এরপর এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে তিনি শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণচেষ্টা চালান। এতে ব্যর্থ হলে শিশুটির গলা চেপে ধরেন। তখন শিশুটি তার মাকে ঘটনাটি বলে দেবে জানায়। পরে ভয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন ইসরাফিল। এরপরই লাশটি গুম করতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাছিমা বেগমের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে চলে যান।

আজমীর হোসেন আরও বলেন, ঘটনার চার দিন পর সেপটিক ট্যাংকে মানববর্জ্য নিষ্কাশন না হওয়ায় নাছিমা তাঁর বড় ছেলে রহমানকে জানান। এরপর রহমান ও আমিনের সহযোগিতায় ট্যাংকটির ঢাকনা খুলে শিশুটির লাশ দেখতে পান তাঁরা। একপর্যায়ে নাছিমা ও তাঁর ছেলেরা ভয়ে লাশটি আড়াল করতে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে পাশের কলাবাগানে ফেলে আসেন।

গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ইয়াবা সেবন করেছিলেন ইসরাফিল। পরে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে তিনি চকলেট ও বিস্কুটের প্রলোভন দেখিয়ে তুলে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। হত্যাকাণ্ডটি ইসরাফিল একাই ঘটিয়েছেন এবং লাশ গোপন করার অপরাধে নাছিমা এবং তাঁর ছেলেকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তাঁদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান, পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিকে কুপিয়ে ৩ লাখ টাকা ছিনতাই

ভারত সরকারকে নীতিমালা মেনে অবৈধ বাংলাদেশিদের পাঠানোর আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

এসএসসির পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে অবরুদ্ধ এনসিপি নেতা

বিয়ের অনুষ্ঠানে টেবিলের নিচে মাংস জমা, কনেপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ১০

ফরিদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তারের দাবি যুবদল নেতার

ফরিদপুরে মাদক কারবারের অভিযোগ তুলে নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

মায়ের লাশ দেখতে ছুটছিলেন, পথেই নিভে গেল মেয়ের জীবন

ফরিদপুরে নদ থেকে অজ্ঞাত কিশোরীর লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর পাটখেতে মিলল যুবকের মরদেহ

১০ বছরের প্রবাসজীবনের পর বাড়ি ফেরা হলো না, বিয়ের আগেই নিভে গেল ৫ প্রাণ