ফরিদপুরে যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় স্বামী জাকির মোল্যাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন। আদালত চলাকালে দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির মোল্যা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর মঙ্গলকোর্ট গ্রামের জাকির মোল্যার সঙ্গে সালথা উপজেলার ভাবুকদিয়া গ্রামের রেখা বেগমের ২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়।
বিয়ের পর থেকেই রেখা বেগমকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময় অত্যাচার, নির্যাতন চালিয়ে আসছিল জাকির। একপর্যায়ে রেখা বেগম তাঁর পিতার জমি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা দেয় জাকিরকে। ওই টাকা জাকির নষ্ট করে ফেলে। পুনরায় রেখা বেগমকে টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। রেখা বেগম টাকা দিতে রাজি না হলে ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রেখা বেগমকে বেদম মারধর করে জাকির। রেখা বেগমকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় রেখা বেগমের চাচা বাচ্চু খান হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর বৃহস্পতিবার মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালতের বিচারক।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন জানান, যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রী রেখা বেগমকে পিটিয়ে হত্যা করে স্বামী জাকির মোল্যা। এ ঘটনায় ওই সময় রেখা বেগমের চাচা হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য ও শুনানি শেষে আদালতের বিচারক জাকির মোল্যাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।