রাজধানীর গুলশান থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী চাঁদাবাজির মামলায় আলোচিত আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে জামিন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ তাঁকে জামিন দেন।
আদালতের গুলশান থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মোক্তার হোসেন জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে ৫০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বেশ কিছুদিন কারাগারে থাকতে হলেও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ১৮ দিনের মাথায় জামিন পেলেন তিনি।
১২ মার্চ এ মামলার আসামি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জামিন দেন। অর্থাৎ এই মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকেই জামিন দেওয়া হলো।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রিয়াজসহ চারজনকে আটক করে গুলশান থানা-পুলিশ। ২৭ ফেব্রুয়ারি তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ৫ মার্চ রিয়াদকে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ৭ মার্চ তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। এতে অজ্ঞাতনামা ১০/২২ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নির্জন সরদারের সঙ্গে আসামি রাজ্জাক ও তাঁর বন্ধুদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে আসামিদের সঙ্গে নির্জনের দেখা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আসামিরা নির্জনের সঙ্গে কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার একপর্যায়ে আবদুর রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনের পিঠে ও বুকে আঘাত করেন। পরে রাজ্জাক নিজের কাছে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্জনের মুখে আঘাত করলে তাঁর নাকের ওপরের অংশ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
সে সময় ভুক্তভোগীর বন্ধু ও শিক্ষকেরা এগিয়ে এলে আসামিরা তাঁদেরও নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। খবর পেয়ে গুলশান থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আসামিদের আটক করে।
উল্লেখ্য, গত বছর রাজধানীর গুলশানে এক বাসায় চাঁদা দাবির অভিযোগে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।