হোম > সারা দেশ > ঢাকা

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যা: ‎নারী ও মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত

আমানুর রহমান রনি, ঢাকা 

রাকিবুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাকিবুল ইসলামকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার নেপথ্যে নারী ও মাদকসংক্রান্ত দ্বন্দ্বের প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে পুলিশ। স্বজন ও বন্ধুরাও একই অভিযোগ করছেন। গত রোববার রাতের এই হত্যাকাণ্ডকে পূর্বপরিকল্পিত বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, এক তরুণীকে কেন্দ্র করে বিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখনই হত্যার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে শাহবাগ থানার একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, শহীদ মিনারে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যার পেছনে নারী ও মাদকের বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছেন। এ-সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের ধারণা।

গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ মিনারে রাকিবুল ইসলামের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়, পরে গুলি করে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

ঘটনার সময় উপস্থিত পথচারীরা ধাওয়া করে শিহাব উদ্দিন নামের এক তরুণকে আটক করেন। শিহাব খুলনা ও সাতক্ষীরা রুটের বাসচালক। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার দীঘিরপাড়। তাঁর বাবার নাম রফিকুল ইসলাম ও মা শিল্পী বেগম। তাঁকে রাকিবের বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিহাব বলেছেন, পূর্বপরিচিত এক তরুণীর ফোন পেয়ে তিনি রোববার সকালে খুলনা থেকে ঢাকায় আসেন। বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আরও তিন যুবকের সঙ্গে অবস্থান নেন। তাঁরা একসঙ্গে মাদক সেবন করেন। এরপর রাতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। হামলার সময় তিনি ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের পরিচয় তিনি জানেন না বলে দাবি করেছেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে এক তরুণীকে বিয়ে করা নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা জানিয়েছেন রাকিবের বন্ধুরা। সাবরিনা নামের রাকিবের এক বন্ধু বলেন, রাকিবের স্ত্রী রয়েছে। তবে জান্নাত মুন নামের এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে রাকিবের বন্ধুত্ব হয়। সেই তরুণীকে তিনি এক ঘণ্টার চ্যালেঞ্জে বিয়ে করবেন বলেছিলেন। এটা নিয়ে ওই তরুণীর আগের স্বামী সাজিদ নামের এক যুবকের সঙ্গে রাকিবের দ্বন্দ্ব চলছিল। বিভিন্ন সময় ওই ব্যক্তি হুমকি দিয়েছেন বলে রাকিব জানিয়েছিলেন।

তবে রাকিবের দ্বিতীয় বিয়ে বা স্ত্রী জান্নাত মুনের বিষয়টি তাঁর পরিবার জানত না বলে জানিয়েছেন তাঁর বাবা-মা। তাঁর বাবা তরিকুল ইসলাম খোকন বলেন, তিনি কাউকে চেনেন না। রাকিব কার সঙ্গে চলাফেরা করেন, তা-ও জানেন না।

এদিকে রাকিবের হত্যার পেছনে মাদকের দ্বন্দ্ব রয়েছে বলে তাঁর প্রথম স্ত্রী হাবিবা আক্তারের সন্দেহ। তিনি বলেন, বগুড়ায় এক কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিয়েতে গিয়ে খুলনার জান্নাত মুন নামের এক নারী কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে রাকিবের পরিচয় হয়। জান্নাত প্রায়ই তাঁদের বাসায় আসা-যাওয়া করতেন। তিনি জানেন, জান্নাত মুন রাকিবের বন্ধু। ওই তরুণীর স্বামী আছেন, নাম সাজিদ। হাবিবা বলেন, ‘এখন শুনতেছি, রাকিব নাকি জান্নাতকে বিয়ে করেছিল। তবে আমরা বিষয়টি জানি না। সাজিদের সঙ্গে রাকিবের দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানি।’

দ্বন্দ্বের বিষয়ে হাবিবা বলেন, জান্নাত ফোনে কখনো কখনো মাদক পরিবহনসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতেন। খুলনা ও সিলেট থেকে বিভিন্ন পার্সেল আসলে জান্নাত মুন তা সংগ্রহ করতেন ঢাকায়, কখনো কখনো রাকিবকে সংগ্রহ করতে বলতেন। এসব পার্সেলে মাদক আসত বলে তাঁর ধারণা। এগুলো রাকিব সংগ্রহ করতে চাইতেন না। এগুলো নিয়ে কথা-কাটাকাটি হতো। এ ছাড়া জান্নাত মুনের সঙ্গে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সাজিদের সঙ্গেও ঝামেলা চলছিল। তবে জান্নাত মুনকে রাকিব বিয়ে করেছিলেন কি না, তিনি জানেন না।

হাবিবা আরও বলেন, এক মাস আগে সাজিদ ফোনে রাকিবকে গালিগালাজ করেন এবং বাড়াবাড়ি করলে হত্যা করবেন বলে হুমকি দেন। এক সপ্তাহ আগে অপরিচিত নম্বর থেকে রাকিবের হোয়াটসঅ্যাপে একটি পণ্যের প্রচারণার কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং খিলগাঁও থেকে পার্সেল নিতে বলা হয়। তবে ওই পার্সেলে মাদক ছিল বলে তাঁর ধারণা। ওই পার্সেল সংগ্রহ করতে চাননি রাকিব। পরে ওই নম্বর থেকে ফোন করে রাকিবকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর থেকে জান্নাত মুন ও রাকিব পলাতক রয়েছেন। তাই এ বিষয়ে তাঁদের নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, দুজনই তাদের নজরদারিতে রয়েছে। ডিবির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কয়েকজন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা নিজেরাও মাদক সেবন করত। এই মাদক কারবারের দ্বন্দ্বসহ চতুর্মুখী দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে।

এদিকে আজ সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাকিবের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এর আগে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। প্রতিবেদনে আঘাতের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে, রাকিবের শরীরে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। কাঁধের নিচে বুকের ডান পাশে প্রায় সাড়ে ৫ ইঞ্চি গভীর কোপের আঘাত রয়েছে। তার নিচে আরও প্রায় ৭ ইঞ্চি ক্ষত রয়েছে। পেটের ডান পাশে প্রায় ৫ ইঞ্চি এবং বাঁ পাশে আড়াই ইঞ্চি কোপের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শরীরের অন্তত পাঁচটি স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এ ছাড়া পেটের বাঁ পাশে এবং পিঠে গুলির চিহ্নও শনাক্ত করেছে পুলিশ।

রাকিবের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় যান রাকিব। শহীদ মিনারের পশ্চিম পাশে মোটরসাইকেল পার্ক করার পরই ওত পেতে থাকা ৫-৬ জন অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে রাকিবকে একাধিক গুলি করেন। দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে রাকিবের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো হয়। দুর্বৃত্তরা তাঁকে মৃত ভেবে পালিয়ে যাওয়ার পর পথচারীরা তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেন। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাকিবুল ইসলাম ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে রাকিব আহম্মেদ নামে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করতেন। ফেসবুক ও ইউটিউবে তাঁর প্রায় আট লাখ অনুসারী রয়েছে। তিনি ঢাকা শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

উত্তরায় শপিং মলে ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় ৭০০ জনকে আসামি করে মামলা, গ্রেপ্তার ৫

‘মানব পাচার রুখতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ’

রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৫৫ জন গ্রেপ্তার, ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

প্রধানমন্ত্রীর ‘পিএস’ পরিচয়ে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার আবদুস সালাম কারাগারে

জামিন হলেই আ.লীগ নেতাদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া সেই ডিআইজিকে আসকের নোটিশ

অবসরে গেলেন র‍্যাব মহাপরিচালক শহিদুর রহমান এবং এসবি প্রধান গোলাম রসুল

রাজধানীতে বাসের ধাক্কায় পথচারী নিহত

ফিলিং স্টেশনে তেলের মজুত বাড়েনি, ভিড় আগের মতোই

চাঁদাবাজির মামলায় আলোচিত সেই রিয়াদ হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে হত্যার ঘটনায় মামলা