হোম > সারা দেশ > ঢাকা

৪ ঘণ্টা ধরে পুড়ছে কড়াইল বস্তি, ছাই হলো শতাধিক ঘর

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুন সাড়ে ৩ ঘণ্টাও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঢাকার মহাখালী এলাকায় কড়াইল বস্তিতে লাগা ভয়াবহ আগুন চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুনের সংবাদ পেয়ে প্রথমে সাতটি ইউনিট পাঠায়। এরপর ধীরে ধীরে রাত ৯টা পর্যন্ত ১৯টি ইউনিট যোগ দেয় আগুন নির্বাপণের কাজে। আগুনে এখন পর্যন্ত এক থেকে দেড় শতাধিক ঝুপড়ি ঘর পুড়ে গেছে।

ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের দাবি, কেউ নাশকতা করে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে। এদিকে আগুন লাগার সময় ঘর থেকে হুড়োহুড়ি করে জিনিসপত্র বের করতে গিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এক নারী ও শিশুর নিখোঁজের অভিযোগ পেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তা নিশ্চিত করেননি।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার খবর পান। এরপর পর্যায়ক্রমে ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা জানাতে পারেননি তিনি।

বস্তিতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, শীতের লেপ-তোশক, কাঠ ও গ্যাস সিলিন্ডার থাকায় আগুন দ্রুত বস্তিতে ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্তব্যরত কর্মীরা।

অগ্নিনির্বাপণের কাজে থাকা ও বস্তিবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বস্তির সরু গলিতে যানজটের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের। আগুন লাগার পরপরই বস্তির দেয়াল ভাঙা হয়।

সরেজমিন দেখা গেছে, বউবাজার রোড থেকে বেলতলা রোড পর্যন্ত পুরো সড়কে পিকআপ ভ্যানের যানজট সৃষ্টি হয়। এতে ওই সড়ক দিয়ে আসা ফায়ার সার্ভিসের পানিবাহী কোনো গাড়ি অগ্নিকাণ্ড স্থলে পৌঁছাতে পারেনি। যানজটের কারণে ফায়ার ফাইটাররা বিকল্পভাবে পানি দিচ্ছে।

সেলিম নামে বস্তির এক সবজি বিক্রেতা বলেন, আগুন লাগার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে। কিন্তু সব গাড়ি আগুনের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি। রাস্তায় যানজটের কারণে সব গাড়ি আটকে আছে। দূর থেকে পাইপ টেনে পানি দিচ্ছেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

জহুরা নামে এক পোশাকশ্রমিক বলেন, ‘কেউ মনে হলো আগুন লাগিয়ে দিয়েছে, এত দ্রুত আগুন ছড়িয়েছে, দৌড়েও পারা যায়নি। কোনো রকম জীবন নিয়ে বের হয়েছি।’

চোখের সামনে আগুনে জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যেতে দেখে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীদের পাশেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বস্তির বাসিন্দা লাভলী বেগম। তিনি বলেন, ‘ও ভাই আমার সব পুইড়া শ্যাষ, কিচ্ছু নেই। সাত বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে তিল তিল করে জিনিসপত্র কিনেছিলাম। ঘরে টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন আসবাব কিনেছিলাম। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ আগুন আমার সব শ্যাষ করে দিল।’

বোনের ফোনে খবর পেয়ে দ্রুত বস্তিতে ছুটে আসেন কড়াইল বস্তির বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী নাসিমা বেগম। তিনি বলেন, ‘শুনেছি আমার ঘর পুড়ে গেছে, সব জিনিস শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে কী করব, বুঝতে পারছি না।’ অন্তত ২০০ ঘর পুড়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। ইউনিটগুলো নানা সময়ে এসে পৌঁছায়। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কারণ জানা যায়নি।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট, চরম ভোগান্তি

রাজধানীর সায়েদাবাদে মাদক কারবারিদের গুলিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আহত

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু

রাজধানীর কদমতলীতে ট্রাকচাপায় কিশোর নিহত

‘বনি ইসরায়েল উত্থান-পতন’

মাসব্যাপী মশা মারবে ডিএসসিসি

ইকরার আত্মহত্যায় প্ররোচনার আসামি হলেন আলভী–তিথি

যমুনার সামনে উল্টো পথে আসা দুই সরকারি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ

উত্তরায় হাসপাতালে ড্রাম বিস্ফোরণ, ওয়ার্ড বয় আহত

শেখ সেলিমের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন, স্ত্রী–সন্তানদের সম্পদ বিবরণী চাইল দুদক