জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাস্তা থেকে টেনে পাশের জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাত সোয়া ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো ফজিলাতুন নেছা হলের পাশে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলেও তাঁর নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বাইকে করে পুরোনো ফজিলাতুন নেছা হল অতিক্রম করার সময় হঠাৎ একটা মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। আমরা সেখানে দৌড়ে গেলে পাশের জঙ্গল থেকে একটা মেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় বেরিয়ে আসেন। তাঁর পায়ে স্যান্ডেল ছিল না এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাটি, ধুলা লেগে ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, কেউ একজন তাঁকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করছে। আমরা উপস্থিত সবাই সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গলে ঢুকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। কিন্তু অন্ধকারে তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা নিরাপত্তা শাখায় ফোন করি। তাঁরা আসার পরে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীকে মেডিকেল সেন্টারে পাঠানো হয়।’
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী পুরোনো ফজিলাতুন নেছা হলের সামনের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন। এ সময় অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি তাঁর পিছু নেন। হঠাৎ দেখা যায়, ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর গলায় দড়ির মতো কিছু একটা পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়।
এই ঘটনা ক্যাম্পাসে জানাজানি হওয়ার পর রাতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা শাখার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করেন এবং দ্রুত এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এই ঘটনায় আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশুলিয়া থানায় ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মামলা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. জেফরুল হাসান চৌধুরী।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সকালে মামলা করা হয়েছে। আমাদের কাছে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ আছে। আশা করছি, দ্রুতই হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে পারব। পুলিশ, ডিবি, র্যাব একসাথে কাজ করছে।’
এদিকে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা প্রদানে চূড়ান্ত ব্যর্থতার বিরুদ্ধে রাত ১০টায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। মানববন্ধনে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকটি ঘটনায় বলা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এর প্রধান কারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চরম উদাসীনতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ছাড়া বাকি সব কাজে নিজেদের ব্যস্ত রাখছে। তাদের মূল কাজ শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তায় কাজ করা, কিন্তু এগুলোর প্রাধান্য তাদের কাছে নাই। এরই ন্যক্কারজনক প্রতিফলন গতকালকে আমরা দেখেছি।’