বরগুনায় আমতলীতে সোহাগ হাওলাদার নামের এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগীর স্ত্রী তানজিলা আক্তারের দাবি, মাদক কারবারিতে বাধা দেওয়ায় তাঁর স্বামীকে কুপিয়ে জখম করেছেন স্থানীয় অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা নামের দুই ভাই ও তাঁদের লোকজন। হামলাকারীরা তাঁর স্বামী কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছেন। এদিকে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবিতে আজ শুক্রবার বেলা ১১টায় উপজেলার গাজীপুর-কুকুয়া সড়কের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।
গত সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে আমতলী উপজেলার কুকুয়া গ্রামের সরদার বাড়ির সামনে ব্যবসায়ী সোহাগের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সোহাগ উপজেলার কুকুয়া গ্রামের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ডের বিকাশ ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন আমতলী উপজেলার কুকুয়া গ্রামের মোশাররফ মৃধার দুই ছেলে অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা।
জানা গেছে, অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা এলাকায় মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ছিনতাই করাসহ নানা অপকর্ম করেন বলে অভিযোগ আছে। ১৮ মার্চ তাঁদের মাদক কারবারিতে বাধা দেন সোহাগ। এর জেরে গত সোমবার রাতে সোহাগের ওপর হামলা চালান তাঁরা। হামলাকারীরা সোহাগের চোখ, মুখ বেঁধে এলোপাতাড়ি কোপান। পরে সোহাগকে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় তাঁরা সোহাগের সঙ্গে থাকা সাড়ে ছয় লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। হামলার ঘটনায় সোমবার রাতেই আমতলী থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
এদিকে ব্যবসায়ী সোহাগের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আজ মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বেলা ১১টা দিকে কুকুয়া-গাজীপুর সড়কের মৃধাবাড়ী স্ট্যান্ডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়। মানববন্ধনে তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কবির হাওলাদার, নাঈম, পারভীন ও কুদ্দুস মোল্লা প্রমুখ।
হামলাকারীদের বিচার দাবি করে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অমিত ও শিমুল এলাকায় মাদক কারবারি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তাঁদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাঁর ওপর নেমে আসে নির্যাতন। মাদক কারবারিতে বাধা দেওয়ায় সোমবার রাতে সোহাগের ওপর হামলা চালিয়েছেন দুই ভাই ও তাঁদের সহযোগীরা।
সোহাগে স্ত্রী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘১৮ মার্চ অমিত মৃধা ও শিমুল মৃধা মাদক কারবারি করছিলেন। আমার স্বামী এতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমার স্বামীকে বেঁধে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। মৃত ভেবে তাঁরা আমার স্বামীকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখেন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা সাড়ে ৬ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে আমার স্বামী বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। এখনো তাঁর ঠিকমতো জ্ঞান ফেরেনি। আমি এ ঘটনায় তাঁদের বিচার দাবি করছি।’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।