বাগেরহাটের চিতলমারীতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে ভুগছে। স্কুলের ভেতরে থাকা নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় শিক্ষার্থীরা তা পান করতে পারছে না। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমাত্র পানির উৎস নলকূপটি নষ্ট থাকায় চৈত্রের তাপপ্রবাহে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা অনিরাপদ পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে।
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলায় ১১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৭টি আলিয়া মাদ্রাসা ও ৪টি কলেজ রয়েছে; যেখানে প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নলকূপ নষ্ট ও অকেজো। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ জলাধার খালি পড়ে রয়েছে।
সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সামিরা সুলতান ছোঁয়া বলে, ‘আমাদের স্কুলে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। বাড়ি থেকে বোতলে ভরে আনতে হয়। অনেক সময় পানি ফুরিয়ে যায়। তখন খুব কষ্ট হয়।’
ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামালেন্দু গোলদার, সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কল্যাণী রানী বাড়ই ও শ্যামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাফায়েত হোসেন জানান, তাঁদের বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। স্কুলের আশপাশের বসতবাড়িগুলোর নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় তা শিক্ষার্থীরা পান করতে পারে না।
চিতলমারীর প্রাণকেন্দ্রে এ কে ফায়জুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোহিতুল ইসলাম জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে কোনো নলকূপ নেই। বাধ্য হয়ে পাশের পুকুর থেকে পানি সংগ্রহ করে ড্রামে ভর্তি করে রাখা হয়। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী সেই পানি পান করতে চায় না।
বড়বাড়িয়া রহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাশুকুর রহমান জানান, তাঁর মাদ্রাসায়ও বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট রয়েছে।
চিতলমারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা অচ্যুতানন্দ দাস বলেন, ‘গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের চাহিদা বেড়ে যায়। অনেক বিদ্যালয়ে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ওপর মহলে জানানো হবে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মুরাদও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলে জানান।
চিতলমারী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. আজমল হোসেন বলেন, এই উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন করা যায় না। আর অধিকাংশ নলকূপের পানিতে মাত্রাতিরিক্ত আয়রন ও লবণ থাকায় তা পানের অযোগ্য। রেইন ফিল্টার দিলেও দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় জলাধারগুলো শূন্য।
চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ভুক্তভোগী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানালে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেব।’