হোম > সারা দেশ > রংপুর

তিন সন্তান প্রতিবন্ধী, নাতি-নাতনি নিয়ে মানবেতর জীবন রাবেয়ার

মিফতাহুল ইসলাম, পীরগঞ্জ (রংপুর)

রাবেয়া বেগম ও তাঁর দুই প্রতিবন্ধী ছেলে। ছবি: সংগৃহীত

‘হ্যামার কেডা আছে, হ্যামার দিক কেডা দেখপি? খোঁজ নেওয়ার কেউ নাই। মুই মেলা জায়গাত গ্যাছি, অনেক অফিসে গ্যাছি, মানুষের পাছে পাছে ঘুরছি। হাত ধরছি, পাও ধরছি—কিন্তু মোর দুঃখ কেউ বোঝে না। মানুষের বাড়িত কাম করি, খাইয়া না-খাইয়া নাতি-নাতনিরে লইয়া কোনোমতে বাঁচি আছি।’ আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লালদীঘি ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম। তাঁর তিন সন্তানই প্রতিবন্ধী। তাঁরা হলেন বিপু (৩৫), শিমুল (৩০) ও তাছলিমা (২৮)।

জানা যায়, জন্মের সময় তিন ভাই-বোনই সুস্থ ছিল। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের বেড়ে ওঠা। স্থানীয় একটি ব্র্যাক স্কুলে পড়াশোনা করতেন তাঁরা। বড় হয়ে সংসারও শুরু করেন। অভাব ঘোচাতে দুই ভাই গার্মেন্টসে কাজ নেন। বোন তাছলিমারও বিয়ে হয় এবং দুই সন্তানের মা হন।

প্রায় ২০ বছর আগে বাবা মকবুল হোসেন মারা যান। এর পর থেকেই পরিবারের ওপর নেমে আসে দুর্ভোগ। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিন ভাইবোনের আচরণে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক কথাবার্তা অসংলগ্ন হয়ে যায়। কেউ দৃষ্টি হারিয়ে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন, আবার কারও হাত-পা বেঁকে গিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধিতার সৃষ্টি হয়। কারও কারও কথাবার্তাও অস্পষ্ট হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় দুই ভাই গার্মেন্টসের চাকরি হারিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। সংসারের চরম দুর্দশায় বিপুর স্ত্রী সংসার ছেড়ে চলে যান। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি একাকী জীবন কাটাচ্ছেন। ছোট ছেলে শিমুলের স্ত্রীও সাত বছর বয়সী একমাত্র কন্যাসন্তানকে রেখে বাবার বাড়ি চলে যান।

ফলে নাতি-নাতনিদের দায়িত্ব এসে পড়ে বৃদ্ধা রাবেয়া বেগমের কাঁধে। ভিটেমাটি ছাড়া তাঁদের আর কোনো জমিজমা নেই।

বহু দৌড়ঝাঁপের পর বড় ছেলে বিপুর জন্য সমাজসেবা বিভাগ থেকে প্রতিবন্ধী কার্ড পাওয়া গেছে। এতে মাসে পাঁচ হাজার টাকা ভাতা পান তিনি। তবে এখনো ছোট ছেলে শিমুলের নামে কোনো প্রতিবন্ধী কার্ড হয়নি।

রাবেয়া বেগম জানান, সহায়তার আশায় তিনি অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। একসময় এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের বাড়িতেও গিয়েছেন, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি।

রাবেয়ার মেয়ে তাছলিমার বিয়ে পাশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায়। মানবিক কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে এখনো সংসারে রেখেছেন।

এদিকে অর্থাভাবে অনাহার-অর্ধাহারে দিন কাটছে রাবেয়া বেগমের। নাতি-নাতনিদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘তরুণ বয়সে হঠাৎ শারীরিক, দৃষ্টি বা বাক্‌প্রতিবন্ধিতা দেখা দিলে তা অনেক সময় মস্তিষ্কের নিউরোলজিক্যাল সমস্যার কারণে হতে পারে।’

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদন করার পর সমাজসেবা বিভাগের চিকিৎসক দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যোগ্য মনে করলে ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়।’

সাত বছর ধরে বিকল অ্যাম্বুলেন্স, সেবাবঞ্চিত ইউনিয়নবাসী

রাজধানীর সড়ক-ফুটপাত: অভিযান শেষে ফের দখলে

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল: চিকিৎসক সংকটে ধুঁকছে হাসপাতাল

কমলগঞ্জ-আদমপুর সড়ক: ১৮ ফুট চওড়া সড়কে ১০ ফুট প্রস্থ কালভার্ট

রানীনগর বালুমহাল: ইজারা ‘পাইয়ে দিতে’ কৌশলী প্রশাসন

শ্রীপুরে চীনা চাষির খেতে ১ ফুট লম্বা মরিচ

কেরানীগঞ্জে বাড়িতে ঢুকে যুবককে গুলি, পুলিশের ধারণা অভ্যন্তরীণ কোন্দল

ময়মনসিংহে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশনের ৫৮ হাজার লিটার তেল উধাও, ম্যানেজার গ্রেপ্তার

গাংনীতে দুই প্রতিষ্ঠানকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

সুবর্ণচরে তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনে হামলা–ভাঙচুর, আটক ২