বরিশালের আগৈলঝাড়ায় জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার অভাবে ভুক্তভোগী ওই পরিবার বাড়ি ফিরতে পারছে না। এ ঘটনায় আদালতে মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।
মামলা ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের চাউকাঠী গ্রামের বেল্লাল ও জহিরুল হাওলাদারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে একই বাড়ির রহিম, খলিল ও জাকির মৃধার। যৌথ বাড়ির যাতায়াতের পথ ও ঘাটলা নিয়ে ঝগড়াঝাঁটির একপর্যায় রহিম মৃধার নেতৃত্বে সাতজনের একটি দল সম্প্রতি প্রতিপক্ষের বেল্লাল হাওলাদারের স্ত্রী সুখী বেগম, ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শাওন হাওলাদার, ভাই প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পারুল বেগম, মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ফাজিয়া আক্তারকে পিটিয়ে আহত করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
পারুল বেগম বাদী হয়ে বরিশাল আদালতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলাটি আগৈলঝাড়া থানায় এলে তদন্তের জন্য ২৫ মার্চ ঘটনাস্থলে যান এসআই ওমর ফারুক। তদন্তের সময় মামলার বাদী পারুল বেগমের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র স্বাধীন হাওলাদার ঘটনাটি ভিডিও করছিলেন, এ অভিযোগে খলিল মৃধার ছেলে রাজু মৃধার নেতৃত্বে তিনজন মিলে হামলা করে গুরুতর আহত করে তাকে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মা পারুল বেগম আগৈলঝাড়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করলে এসআই মামুন ঘটনাস্থলে হামলাকারীদের খুঁজে না পেয়ে ফিরে আসেন।
পুলিশ চলে আসার পর হামলাকারীরা পুনরায় বেল্লাল ও জহিরুল হাওলাদারের পরিবারের ওপর হামলা করেন। হামলাকারীরা প্রভাবশালী হাওয়ায় আতঙ্কে বেল্লাল ও তাঁর ভাই প্রবাসী জহিরুলের স্ত্রী, সন্তানেরা নিরাপত্তার অভাবে বাড়ি ফিরতে পারছে না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাকির মৃধা বলেন, ‘পারুলের ছেলে স্বাধীন হাওলাদার নারীদের ভিডিও ধারণের সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। এ কারণে তারা আমাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছে।’
এসআই ওমর ফারুক বলেন, ‘মামলা চলমান। তদন্ত শেষে আদালতে রিপোর্ট পাঠানো হবে। আমি ফিরে আসার পরে কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে, তা আমার জানা নেই।’