মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগুনে পুড়ল রংপুরের আলুচাষিদের কপাল। রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে তিন দেশে আলু রপ্তানির কথা ছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় আপাতত আলু কিনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর লোকসান হওয়ায় এ বছর মিঠাপুকুরে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। গত বছর ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছিল।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আলুর বাম্পার ফলন হয়েছিল; কিন্তু ঝড়বৃষ্টিতে আলুখেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক খেতের আলুতে পচন ধরে।
কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, তিনি গত বছর ৪৭ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। লোকসান হওয়ায় এ বছর ২০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। ঝড়বৃষ্টির কারণে এ বছরও লোকসান গুনতে হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, খুচরা বাজারে স্টিরিক্স জাতের প্রতি কেজি আলু ১২ থেকে ১৫ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। দেশি জাতের আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। তবে ফলন কম হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে দেশি জাতের আলু চাষ করা হয় না।
ইতিমধ্যে উপজেলার উত্তমাশা ও শাপলা কোল্ডস্টোরে আলু
নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মাইকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
অথচ এখনো খেত থেকে আলু তুলছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হাকিম আজকের পত্রিকাকে বলেন, মিঠাপুকুর থেকে নেপাল, মালয়েশিয়া ও ভুটানে আলু রপ্তানির জন্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁরা ঈদের আগেই সানসাইন, অ্যালুয়েট ও ভ্যালেঞ্চিয়া জাতের আলু কিনতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে রপ্তানিকারকেরা আপাতত আলু ক্রয়ে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া আলু পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে হিমাগারে সংরক্ষণ করতে পারলে ক্ষতি হবে না। ইতিমধ্যে ৬৫ ভাগ আলু ঘরে তোলা হয়েছে।
স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো নিজেরাই আলু তোলার কাজ করছেন। অনেকে কৃষিশ্রমিক নিচ্ছেন। শ্রীদাম দেবনাথ নামে একজন শ্রমিক বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলু তোলার জন্য পারিশ্রমিক হিসেবে ২০ কেজি আলু পাওয়া যায়। একই কথা বলেন কৃষিশ্রমিক সুশিলা টপ্য ও ঝাকালি মিনজী।